• জুন ১৮, ২০২১
  • Last Update জুন ১৬, ২০২১ ১০:৩৮ অপরাহ্ণ
  • বাংলাদেশ

বগুড়া কলেজ ছাত্রীকে বেড়াতে বরিশালে এনে হত্যা স্বামী সহ ১০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের ॥

বগুড়া কলেজ ছাত্রীকে বেড়াতে বরিশালে এনে হত্যা স্বামী সহ ১০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের ॥

বগুড়া সদরের সাব গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফের কন্যা ও বগুড়া সৈয়দ আহম্মেদ কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী নাজনিন আক্তারকে (১৮) গৌরনদীতে প্রথম বেড়াতে এনে হত্যা করেছে স্বামী বগুড়া জাহাঙ্গীরাবাদ সেনানিবাসের পরিচ্ছন্নতা কর্মী সাকিব হোসেন। হত্যার ১১ দিন পর নিহত কলেজ ছাত্রীর বাবা বাদি হয়ে শুক্রবার রাতে নিহত নাজনিনের স্বামী শ্বশুর-শ্বশুড়ি, নোনদের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরো ১০ জনকে আসামি করে বগুড়া সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। প্রধান আসামি স্বামী ও বগুড়া জাহাঙ্গীরাবাদ সেনানিবাসের পরিচ্ছন্নতা কর্মী সাকিব হোসেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যার লোমহর্ষক বর্ননা দিয়ে জবানবন্দি দিয়েছে।

বগুড়ার কলেজ ছাত্রী নিহত নাজনিন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বগুড়া সদর থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ গোলাম মোস্তফা জানান, বৃহস্পতিবার বরিশালে লাশের ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর শুক্রবার দাফন করা হয়। একই দিন রাতে নিহত কলেজ ছাত্রীর বাবা আব্দুল লতিফ বাদি হয়ে জামাতা সাকিব হোসেন তার বাবা করিম হাওলাদার, মা বিধি বেগম, বোন রাশিদা বেগমের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামাসহ ১০ জনকে আসামি করে বগুড়া সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। প্রধান আসামি সাকিব হোসেন গ্রেপ্তার হলেও এজাহারভুক্ত আসামি সাকিবের বাবা করিম হাওলাদার, মা বিধি বেগম, বোন রাশিদা বেগম পলাতক রয়েছে। প্রধান আসামি সাকিব হোসেনে শুক্রবার বগুড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিন হাসানের কাছে ১৬৪ ধারায় সাকিব, তার পিতা-মাতা ও বোন জড়িত থাকাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া জাহাঙ্গীরাবাদ সেনানিবাসের পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও বাবুগঞ্জ উপজেলার চরজাহাপুর গ্রামের আব্দুল করিমের পুত্র সাকিব হোসেন হাওলাদার স্ত্রী কলেজ ছাত্রী নাজনিন আক্তারকে গত ২৪ মে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার হরহর গ্রামের সাকিবের পিতার ভাড়াটিয়া বাসায় নিয়ে এসে হত্যার পর বাসার পিছনে সেফটি ট্যাংঙ্কির মধ্যে লাশ গুম করে। এ ঘটনায় বগুরা সদর থানা পুলিশের হাতে আটক হয় সাকিব। মঙ্গলবার গৌরনদী মডেল থানা পুলিশের সহায়তায় দিনভর লাশ উদ্ধারের জন্য অভিযান চালায় বগুরা সদর থানা পুলিশ। সাকিবের স্বীকারোক্তি মতে, সেফটি ট্যাংঙ্কিতে অভিযান চালানো হলে সেখানে লাশ পাওয়া না গেলেও কলেজ ছাত্রীর পরিধেও ওড়না, শরীরের চামড়া ও নখ উদ্ধার করা হয়। গৌরনদী থানা পুলিশ জানান, বগুড়া পুলিশ কর্তৃক মঙ্গলবারের অভিযান ব্যর্থ হওয়ার পরে ওই দিন রাতে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ ঘাতক সাকিব হোসেনরে বাবা ভ্যান চালক করিম হাওলাদারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত গৌরনদীর বাটাজোর বন্দরের মুদি দোকানদার মোঃ সরোয়ার ফকিরকে (৩৫) আটক করে থানায় এনে জ্ঞিাসাবাদ করা হয়। এক পর্যায়ে তাকে (সরোয়ারকে) ২৪ ঘন্টার মধ্যে করিম হাওলাদার সম্পর্কে তথ্য উদঘাটনের জন্য সোর্স হিসেবে দায়িত্ব দেন। সোর্সের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার দুপুর ২টায় বাটাজোর কাটাগাছতলা নামক স্থানের খালের ওপারে ধানক্ষেত থেকে নিহত কলেজ ছাত্রী নাজনিন আক্তারের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ । পুলিশ আরো জানান, খুনি সাকিব হোসেন স্ত্রীকে হত্যার পর সেপটিক ট্যাংক লাশ গুম করে। পরবর্তিতে তার বাবা ভ্যান চালক করিম হাওলাদার, মা স্ত্রী বিথি বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা সহযোগীদের নিয়ে সেপটিক ট্যাংক থেকে লাশ তুলে পলিথিন ও চিনির বস্তা ও পরে ছালার বস্তায় ভরে দ্বিতীয় দফায় লাশ সরিয়ে ফেলে।

উল্লেখ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্রধরে গত বছর ৩০ সেপ্টেম্বর বগুড়া সদর উপজেলার সাবগ্রাম এলাকার আব্দুল লতিফ প্রমাণিকের একাদশ শ্রেণী পড়–য়া কন্যা নাজনিন আক্তারের সাথে বিয়ে হয় বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার নতুন চরজাহাপুর গ্রামের আব্দুল করিম হাওলাদারের পুত্র ও বগুড়া জাহাঙ্গীরাবাদ সেনানিবাসের ঝাড়–দার সাকিব হাওলাদারের। বিয়ের সময় কলেজ ছাত্রী স্ত্রীকে মিথ্যে তথ্য দিয়ে বিয়ে করে সাকিব। পরবর্তীতে ২৪ মে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার হরহর গ্রামে সাকিবের পিতার ভাড়াটিয়া বাসায় স্ত্রী নাজনিনকে নিয়ে এসে হত্যার পর লাশ গুম করে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *