• মে ৬, ২০২১
  • Last Update মে ৬, ২০২১ ৪:৪২ অপরাহ্ণ
  • বাংলাদেশ

উজিরপুরে গুলি চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি, আ’লীগ নেতা ইকবালের বিরুদ্ধে অপপ্রচার!

উজিরপুরে গুলি চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি, আ’লীগ নেতা ইকবালের বিরুদ্ধে অপপ্রচার!

প্রথম ধাপে আগামী ১১ এপ্রিল বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা, জল্লা, ওটরা, শোলক ও বড়াকোঠা ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে শোলক ইউনিয়নে আ’লীগের মনোনিত নৌকার প্রার্থী আব্দুল হালিম সরদার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বি বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের (চরমোনাই) মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো: শফিকুল ইসলাম স্বপন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ায় নৌকার প্রার্থী নির্বাচিত হন। সেখানে চেয়ারম্যান পদ ব্যতীত সংরক্ষিত নারী সদস্য ও সাধারণ সদস্য পদের বিপরীতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথম ধাপের এই নির্বাচনে ভোটাররা প্রার্থীদের নিয়ে যতটা না আলোচনা করছে, তার চেয়ে বেশি সশস্ত্র সন্ত্রাসী ও চরমপন্থীদের নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। প্রায় প্রতিরাতেই চিহ্নিত অস্ত্রধারীরা নির্বাচনী এলাকাগুলোতে অবস্থান নিয়ে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে এবং বাড়িবাড়ি গিয়ে ভোটারদের হুমকি দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। সবশেষ গতকাল রোববার (২৮ মার্চ) রাতে নির্বাচনি এলাকা উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের মশাং বাজারের পূর্বপাড় বটতলাহাট নামকস্থানে গোলাগুলি ও ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সেখানে একটি কুচক্রী মহল নীলনকশা বাস্তবায়ন করতে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবাল’কে লক্ষ করে গুলি ছোড়ে, তার লোকজনের মধ্যে ওই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবালসহ তার লোকজন মশাং( বটতলা বাজারে) চায়ের দোকানে বসা ছিলেন, তখন মাদক মামলার আসামি মোঃ মঞ্জু খানের নেতৃত্বে তাকে লক্ষ করে গুলি ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় এক দল চিন্হত মাদক ব্যবসায়ি সন্ত্রাসীরা। এসময়ে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাকে সেখান থেকে নিরাপদে আনা সম্ভব হয়। এসংবাদ ছড়িয়ে পরলে, শিবপুর টু শিকারপুরে হাজারও নেতা কর্মীর’সহ এলাকাবাসীর ঢলে উত্তেজনা বিরাজ করে। এরই ধারাবাহিকতায় নৌকার পক্ষে সক্রিয় আ’লীগ নেতা হাফিজুর রহমান ইকবালক’র বিরুদ্ধে কুচক্রী মহল এই ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে মিথ্যা অপপ্রচার করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেষ্টা করছে বলে জানা যায় ।

এ বিষয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারি উজিরপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাইনুল ইসলাম স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, গোলাগুলি কিংবা ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়ার মতো কোন ঘটনার সম্পর্কে স্থানীয় কেউ মুখ না খুললেও। কয়েকজন লোক নিয়ে ওই এলাকার একটি দোকানে আ’লীগ নেতা হাফিজুর রহমান ইকবাল অবস্থান করেছিলেন। সে সময় একটি পক্ষ তাদের দিকে এগিয়ে আসলে আ’লীগ নেতা ইকবালসহ অন্যরা চলে যান।

এ সম্পর্কে উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ও স্বনামধন্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবাল জানান, “মাদক চোরাকারবারি মঞ্জু খানের নেতৃত্বে হঠাৎ একটি মহল গুলি করে ও বোমা হামলা চালায়, স্থানীয়দের সহযোগীতায় নিরাপদে আসতে সক্ষম হই। এছাড়াও তিনি তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন।” উপজেলা রির্টানিং ও নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আলীমদ্দিন জানিয়েছেন, ওটরা ইউপিতে রোববার রাতের ঘটনাটি শুনেছি।

তবে এ বিষয়ে প্রার্থীর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া কোন প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা যাতে ভোটারদের হুমকি দিতে না পারে সে বিষয়েও প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো হবে।’ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আসন্ন এ নির্বাচনে উপজেলার সাতলা, জল্লা, ওটরা, শোলক ও বড়াকোঠা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদের বিপরীতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই), ওয়ার্কার্স পার্টি ও আ’লীগের বিদ্রোহীসহ মোট ১৬ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করছেন।

একই সঙ্গে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের বিপরীতে ৫১ জন ও সাধারণ সদস্য পদের বিপরীতে ১৮৮ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এসব ইউপির ৪৭টি ভোট কেন্দ্রে ৫৭ হাজার ২০৩ জন পুরুষ ও ৫৪ হাজার ৬৪৮ জন নারীসহ মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৮৪৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *