কবরস্থানের গাছ চুরি করে বিক্রি করলো ম্যানেজিং কমিটির সদস্য

কবরস্থানের গাছ চুরি করে বিক্রি করলো ম্যানেজিং কমিটির সদস্য

সেলিম রেজা, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ কবরস্থানের গাছ চুরি করে কেটে নিয়ে গেছে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নিজেই। গ্রামবাসীর কাছে হাতে নাতে ধরা পড়লেও বিচার ব্যবস্থা নিয়ে তালবাহানা করছে কমিটির দুর্নীতিগ্রস্থ সদস্যরা। ঘটনা ঘটেছে সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলাধীন সদর ইউনিয়নের চকজয় কৃষ্ণপুর গ্রামে। জানা গেছে, কবরস্থানটি চকজয় কৃষ্ণপুর গ্রামে অবস্থিত হলেও পাশ্ববর্তী তিন গ্রামের মানুষেরা এখানেই মৃত ব্যক্তিদের দাফনকার্য সম্পন্ন করে থাকে। কবরস্থানটির আয়তন বেশ বড় হওয়ার কারনে এখানে প্রচুর গাছ লাগানো হয়েছে। প্রতি বছর বাছাইকৃত কিছু গাছ বিক্রয় করে কবরস্থানের উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়। সে মোতাবেক এবছরেও ৯টি গাছ বিক্রয়ের প্রস্তাব করা হলে কমিটির সদস্য ও উক্ত গ্রামের বাসিন্দা কমিউনিটি হেলথ্ কেয়ার প্রোভাইডার মোঃ ফরিদুল ইসলাম কমিটির দুর্নীতিবাজদের ম্যানেজ করে ৯টি গাছ মাত্র দুই হাজার পাঁচশত টাকায় কিনে নেয়। কিন্তু ফরিদুল গাছ কেঁটে নেয়ার সময় নির্ধারিত ৯টি গাছের সাথে অতিরিক্ত আরও ৫টি গাছ চুরি করে কেঁটে নেয়ার সময় গ্রামবাসীর কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে। পরে গ্রামবাসী সুষ্ঠু বিচারের দাবীতে ম্যানেজিং কমিটিকে বিষয়টি অবগত করে। ম্যানেজিং কমিটি গ্রামবাসীকে বিচারের আশ্বাস দিলেও দিনের পর দিন নানা তালবাহানা দেখিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু গ্রামে বিষয়টি নিয়ে এখনও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোন সময় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে গ্রামবাসী ধারনা করছে। ইতমধ্যে গ্রামবাসী স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাড়াশ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ বাবুল শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি তিন গ্রামের জনসাধারণ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে বসবেন বলেও গ্রামবাসীদের আশ্বাস দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, ইতপূর্বে এই কমিউনিটি হেলথ্ কেয়ার প্রোভাইডার ফরিদুল ইসলাম এলাকাবাসীর সমন্বয়ে গড়ে তোলা মৎস্যচাষ প্রকল্প থেকে রাতের অন্ধকারে তার সঙ্গীদের সাথে নিয়ে মাছ চুরি করতে গিয়েও ধরা পড়ে। মাছ চুরি করে ধরা পড়ার পর পুলিশে সোপর্দ করায় স্থানীয় এক কৃষককে সে দেখে নেবে বলে হুমকিও দিয়েছিল। ঐ কৃষকের ছেলেকেও সে বার বার ফোন করে হুমকী দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ কৃষকের ছেলে জানায় এই ফরিদুলের চুরির কমিউনিটি বেশ শক্তিশালী। এছাড়াও ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে কবরস্থানের সম্পত্তি লীজের টাকা, ব্যাংক হিসাব ও মুনাফার টাকাসহ ইত্যাদি অর্থনৈতিক অস্বচ্ছতার অভিযোগ রয়েছে। কবরস্থানের টাকা দিয়ে সভাপতির পুকুরের পাড় সংস্কারের মত নানান অভিযোগও আছে এই কমিটির বিরুদ্ধে। কমিটির সদস্য ফরিদুল ইসলামের এহেন চুরি সহ নানা নেক্কারজনক কাজের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সাহসের যোগানদার মূলত কমিটির কিছু অসাধু, কুচক্রী, দুর্নীতিবাজ সদস্য যারা ম্যানেজিং কমিটির বড় পদে রয়েছেন। চকজয় কৃষ্ণপুরের জামে মসজিদ ও কবরস্থান একই তহবিলে পরিচালনা হওয়ার কারনে মসজিদ ও কবরস্থানের ম্যানেজিং কমিটিও একটা। উক্ত কমিটি গত ১৭ বছর পূর্বে গঠিত হয়েছে এবং তিন বছর অন্তর কমিটি পরিবর্তনের নিয়ম থাকলেও বর্তমান কমিটি পেশীশক্তি ও নানা তালবাহানা দেখিয়ে ১৭ বছর যাবৎ নিজেদের ক্ষমতা হস্তগত করে রেখেছে। আর এই পেশীশক্তির কারিগরগনের মধ্যে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধাকালীন সময়ের কয়েকজন রাজাকারও রয়েছেন। যারা যুদ্ধপরবর্তীকালীন সময়ে শাস্তিপ্রাপ্তও হয়। তাদের মেরে ফেলার কথা থাকলেও তারা কৌশলে টাকা পয়সার বিনিময়ে ছাড়া পেয়ে আত্মগোপন করে থাকে। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর তারা আবারও পূর্বের রূপে ফিরে আসে গ্রামে। এখন পর্যন্ত তারা সেই পূর্বের কৌশলে শাষন-শোষন করে যাচ্ছে গ্রামের মানুষদেরকে। গ্রামবাসী তথা এলাকাবাসীর দাবী বিষয়টি সরেজমিনে তদন্তপূর্বক চেয়ারম্যান মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগন যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধান করে গ্রামে শান্তিময় পরিবেশ নিশ্চিত করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *