• নভেম্বর ২১, ২০১৯
  • Last Update নভেম্বর ২১, ২০১৯ ১:৩৫ অপরাহ্ণ
  • বাংলাদেশ

যুদ্ধের দুই বছর আগে জন্ম নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা

যুদ্ধের দুই বছর আগে জন্ম নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:– মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হবার ২ বছর আগে জন্ম গ্রহন করে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা পাচ্ছেন আব্দুল রশিদ নামের এক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর (আগরপুর) ইউনিয়নের ব্রাক্ষনদিয়া গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীন হাওলাদারের ছেলে । আব্দুল রশিদ হাওলাদারের এস এস সি পরীক্ষার সনদ সহ প্রশংসা পত্রে ১৯৬৮ সনে জন্ম গ্রহনের কথা উল্লেখ থাকলেও তিনি নিজেকে একজন মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন। এমন অভিযোগ উঠিছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাচাইয়ের সময়ে তিনি এস এস সি পরীক্ষার সনদ গোপন রেখে অষ্ঠম শ্রেনীর সনদে ১৯৫৩ সনে জন্ম দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সৃক্রিতি পাবার জন্য আবেদন করে। ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল রশিদ হাওলাদার রমজানকাঠী গ্রাম বাংলা বিদ্যাপীঠ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৬ সনে মানবিক শাখা থেকে এস এস সি পরীক্ষায় পাশ করেন এবং পরীক্ষায় তাহার রোল ছিল ৫২৯ ও নিবন্ধন নং ছিলো ৮০৭৪৬ শিক্ষাবর্ষ ১৯৮২/১৯৮৩ সন ছিলো। আর তাহার এস এস সি পরীক্ষার সনদ পত্রে জন্ম তারিখ ১০/১০/১৯৬৮ সন এরকথা উল্লেখ আছে। অথচ তিনি জন্ম নিবন্ধনে ০১/০১/১৯৫৩ সনে জন্মের তারিখ উল্লেখ করেছেন। এ ব্যাপারে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) মুসরাত খান বলেন আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নিবো। এদিকে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ১নং বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন শাখার মুক্তিযোদ্ধা নেতারা বানোয়াট মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল রশিদ হাওলাদারের বিরুদ্ধে এক সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা টাকা উত্তোলন না করতে পারে তাহা দাবি করেন সরকারের কতৃপর্ক্ষের কাছে। তার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বই নং ২৫৪, একাউন্ট নং ০৩২১১২০০১৪৬৪৪ এবং আব্দুল রশিদ হাওলাদারের বাংলাদেশ গেজেট নং ১৫১৯ ও লাল মুক্তি বার্তা নং ০৬০১০৪০৫৬৭। এব্যাপারে ১নং বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এইচ এম মিজানুর রহমান বলেন, এস এস সি পরীক্ষার সনদ অনুযায়ি ১৯৬৮ সনে জন্মগ্রহন করা সত্যেও তিনি অর্থের বিনিময়ে অনলাইনে আবেদন করে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে আসছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা হেমায়েত উদ্দিন বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে শনাক্ত করতে ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে বাছাই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বাছাই করা সম্ভব হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *