• নভেম্বর ২১, ২০১৯
  • Last Update নভেম্বর ২১, ২০১৯ ১:৩৫ অপরাহ্ণ
  • বাংলাদেশ

যমুনায় পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে চৌহালীতে আবারও শুরু হয়েছে তীব্র নদী ভাঙন

যমুনায় পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে চৌহালীতে আবারও শুরু হয়েছে তীব্র নদী ভাঙন

সেলিম রেজা, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিযমুনায় পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে চৌহালীতে আবারও শুরু হয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। উত্তর খাষপুখুরিয়া গ্রামে মাত্র এক ঘন্টার ব্যবধানে ৭টি বসত ভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এছাড়া বহু ফসলী জমি, গাছপালা ও পুরাতন কবরস্থান নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থরা অন্যের বাড়িতে এবং ওয়াবদা বাঁধে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এদিকে নদী ভাঙনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বারবার অবগত করা হলেও ভাঙনরোধে নেয়া হয়নি কার্যকরী কোন পদক্ষেপ এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সরকার। স্থানীয়রা জানায়, এবছর যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির পর থেকে চৌহালী উপজেলার উত্তর খাষপুখুরিয়া থেকে মিটুয়ানী পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার ও বারবয়লা থেকে বোয়ালকান্দি-স্থলচর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে শুরু হয়েছে নদী ভাঙ্গন । পানি উন্নয়ন বোর্ড কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ভাঙ্গনের তীব্রতা আরও বাড়তে থাকে। উত্তর খাষপুখুরিয়া গ্রামের কৃষক ঝান্টু মিয়া, সোলায়মান হোসেন, নজরল ইসলাম, আকবার হোসেন, রাহেজ উদ্দিন, আছিয়া খাতুন ও কুলসুম বেগমের বসত ভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এছাড়া খাষপুখুরিয়া পুরাতন কবরস্থান চলে যাচ্ছে নদী গর্ভে। স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী এআর ফিরোজ আহম্মেদ রনব ও সমাজ সেবক আবু দাউদ সরকার জানান, উত্তর খাষপুখুরিয়া এলাকায় তীব্র ভাঙন শুরু হলেও পাউবো কর্মকর্তারা এখনও পরিদর্শন করতে আসেনি। যমুনা নদীর মাঝে নতুন চর জেগে ওঠায় পানি সরাসরি পূর্বপাড়ে আঘাত হানছে, যে কারণে নদী পাড়ে ভাঙন বেড়েছে। পানির গতিপথ পরিবর্তন করতে এই স্থানে বাঁধ নির্মান ও চরকেটে পানির প্রবাহ পরিবর্তন করার দাবি জানাই। এদিকে যমুনার ভাঙনে বারবয়লা, বোয়ালকান্দি-স্থলচর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার এলাকায় শুরু হয়েছে নদী ভাঙন। গত বছর মিস্ত্রিগাতী সরকরী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খাষদেলদারপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ প্রায় দেড় হাজার একর ফসলি জমি ও স্থলচর বাজার বিলীন হয়ে গেছে। নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ খাষপুখুরিা গ্রামের মমতাজ উদ্দিন জানান, ভাঙ্গন কবলিত মানুষ স্বর্বস্ব হারিয়ে আশ্রয়হীন পড়েছে। ছাপড়া তুলে ওয়াবদা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছি। আবার নদী হাঁনা দিবে এমন আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে উত্তর খাষপুখুরিয়া থেকে মিটুয়ানী পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকার বহু অসহায় পরিবার। এদিকে ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে বারবয়লা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, রেহাইমৌশা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বোয়ালকান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোনাবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাষপুখুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বীরবায়ুনীয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিএম উচ্চ বিদ্যালয়, দেওয়ানগঞ্জ বাজার, তাঁতীপাড়া সহ উপজেলার অন্তত ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৪টি কবরস্থান, ৩টি ঈদগাহ মাঠ, মসজিদ মাদরাসা ও বহু ঘরবাড়ি। দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকরী ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসি। এবিষয়ে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহা. আবু তাহির জানান, ভাঙন কবিলত এলাকায় সহায়তা ও ভাঙনরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। তবে সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মমিন মন্ডল বলেছেন, চৌহালীর প্রধান সমস্যা নদী ভাঙন। উত্তর খাষপুখুরিয়ার ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনে পাউবো’র সাথে কথা হয়েছে দ্রুতই সেকেন্ড ফেজের কাজ শুরু হবে। এছাড়া নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মধ্যে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে বলেও জানান তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *