• নভেম্বর ২১, ২০১৯
  • Last Update নভেম্বর ২১, ২০১৯ ১:৩৫ অপরাহ্ণ
  • বাংলাদেশ

বরিশালে গৃহবধূর চেতনার নাটকের রেকডিং ফাঁসে তোলপাড় *মেয়ে জামাতাকে ফাঁসাতে শ্বাশুড়ির ষড়যন্ত্র

বরিশালে গৃহবধূর চেতনার নাটকের রেকডিং ফাঁসে তোলপাড় *মেয়ে জামাতাকে ফাঁসাতে শ্বাশুড়ির ষড়যন্ত্র

বরিশালে গৃহবধূর চেতনার নাটকের রেকডিং ফাঁসে তোলপাড় *মেয়ে জামাতাকে ফাঁসাতে শ্বাশুড়ির ষড়যন্ত্র

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে মেয়ে জামাতার কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া মোটা অংকের টাকা আত্মসাত করতে নিজের মেয়েকে চেতনানাশক ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে। পরবর্তীতে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা হত্যার উদ্দেশ্যে অচেতন করে ওই গৃহবধূকে নির্যাতন করেছে বলে থানা পুলিশ থেকে শুরু করে এলাকায় অপপ্রচার করে মেয়েকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনার তিনদিন পর বুধবার সকালে মেয়ে জামাতাকে ফাঁসাতে শ্বাশুড়ি ও তার মেয়ের এ ষড়যন্ত্রের মোবাইল ফোনে কপোথকথনের রেকডিং ফাঁস হওয়ায় প্রশাসন থেকে শুরু করে সর্বত্র ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনাটি জেলার উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়নের দত্তেশ্বর গ্রামের।

জানা গেছে, ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী আলমগীর হাওলাদারের পুত্র সোহেল হাওলাদার কর্মের সুবাদে ঢাকার গাজীপুরে বসবাসরত অবস্থায় গত দেড় বছর পূর্বে একই এলাকার ভাড়াটিয়া চট্টগ্রামের আন্দারমানিক গ্রামের হেমায়েত হাওলাদারের কন্যা মুন্নি আক্তার মিমের সাথে পরিচয় হয়। পরবর্তীতে সামাজিকভাবে তাদের বিয়ে হয়।

সোহেল হাওলাদার জানান, বিয়ের পর তাকে সরকারী চাকরি পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শ্বাশুড়ি শিল্পী বেগম তার কাছ থেকে সাত লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে চাকরি না দিয়ে তিনি নানা তালবাহানা শুরু করে। এনিয়ে তাদের দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। সর্বশেষ ঘটনারদিন (গত ১৩ এপ্রিল) মিমের সাথে তার মা শিল্পী বেগমের মোবাইল ফোনের কপোথকথনের একটি রেকডিংয়ে শোনা গেছে, শিল্পী বেগম তার মেয়ে মুন্নি আক্তার মিমকে বলছেন-তোমার আন্টির (খালা) কাছে যে ওষুধ পাঠিয়েছি ওইটা তুমি খেয়ে অসুস্থ্যতার অভিনয় করো, বাকিটা আমি দেখছি।

সূত্রমতে, সোহেলের খালা শ্বাশুড়ি রেনু বেগমের দেয়া ওষুধ সেবন করেই অচেতন হয়ে পরেন গৃহবধূ মিম। এরকিছু সময় পরেই নাটকীয়ভাবে শিল্পী বেগম উজিরপুর মডেল থানার এসআই মিজান ও এক সংবাদকর্মীকে নিয়ে সোহেলের বাড়িতে হাজির হয়। ওইসময় শিল্পী বেগম এলাকায় ছড়িয়ে দেয় তার মেয়েকে যৌতুকের দাবিতে জোরপূর্বক চেতনানাশক ওষুধ সেবন করিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্যাতন করা হয়েছে। এজন্য তিনি (শিল্পী) তার মেয়ে জামাতা সোহেল, তার মা মর্জিনা বেগম ও বোন রোজিনা বেগমকে দায়ী করেন। পরবর্তীতে অচেতন অবস্থায় মিমকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে ঘটনার তিনদিন পর বুধবার সকালে মেয়ে জামাতাকে ফাঁসাতে শ্বাশুড়ি ও তার মেয়ের নাটকীয় ষড়যন্ত্রের মোবাইল ফোনে কপোথকথনের রেকডিং ফাঁস হওয়ায় প্রশাসন থেকে শুরু করে সর্বত্র ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। শ্বাশুড়ির প্রতারনার শিকার অসহায় সোহেল হাওলাদার জানান, তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ফাঁসানোর জন্য নাটকীয় ষড়যন্ত্রের ঘটনায় তিনি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *