• নভেম্বর ২০, ২০১৯
  • Last Update নভেম্বর ১৯, ২০১৯ ৮:১০ অপরাহ্ণ
  • বাংলাদেশ

শান্তির ধর্ম ইসলামের মূল জিনিস পাঁচটি

শান্তির ধর্ম ইসলামের মূল জিনিস পাঁচটি

১. আল্লাহকে এক মানা. ২. নামাজ পড়া ৩. জাকাত দেওয়া ৪. রোজা পালন করা ৫. হজ করা। এগুলো না করলে কোনো দিনও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না। কারণ আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামত পর্যন্ত উম্মতের মুক্তির পথ হলো- আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস, সঠিক পদ্ধতিতে নামাজ আদায়, রোজা পালন, সদকা দেওয়া, হজ করা। এখন আপনি মানেন বা না মানেন তাতে আমার কিছু আসে যায় না, আমি রেফারেন্স দিয়ে বলে দিলাম। বস্তুত, ইসলামে বাস্তব কিছুই নেই। ইসলাম যা বলে তা সবই বাস্তব। নতুন করে বাস্তব কিছু বলার প্রয়োজন নেই। একবার এক সাংবাদিক এসে আমাকে বলল, হুজুর আপনাকে কিছু প্রশ্ন করব আপনি উত্তর দেবেন। আমি তার কথার পরিপ্রেক্ষিতে বললাম, জবাব দেওয়া আমার ইচ্ছা, দিলে দিতেও পারি, নাও দিতে পারি। অতঃপর সে আমাকে বলল হুজুর! শান্তি কীভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায় বলবেন? আমি বললাম, আপনি কী ধরনের উত্তর চান? সে বলল, বাস্তবমুখী উত্তর চাই। বললাম আমি বাস্তবে বিশ্বাস করি না। আপনি আল্লাহকে মানেন, নামাজ পড়েন, তাহলেই ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু সে আবারও বলল, হুজুর বাস্তবমুখী কিছু বলুন। আমি পাল্টা প্রশ্ন করলাম, বাস্তবমুখী কী তা আপনিই বলুন! আপনি বাস্তবের কথা বললেন, আমি উত্তর দেব বিশ্বাসভিত্তিক, বাস্তবভিত্তিক নয়। কারণ যে বাস্তব বিশ্বাসবিরোধী হয় তা শান্তি আনতে পারে না। ওই বাস্তবই শান্তি আনতে পারবে যদি তা বিশ্বাসভিত্তিক হয়। আর শুধু বিশ্বাস হলেই চলবে না বিশ্বাসটা সঠিক হতে হবে। বাস্তবমুখী কার্যক্রম দ্বারা যদি শান্তি আসত তাহলে আমরা ধ্বংস হতাম না। জেনে রাখুন, সব কিছু বাস্তবভিত্তিক নয়। আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখুন, আসমান, সূর্য ইত্যাদি দেখা যায়। এখন আপনি যদি বাস্তব দেখে বলেন, সূর্যটা পকেটে নেওয়া যাবে তাহলে কি আপনার কথা ঠিক হবে? বুকে হাত রেখে বলুন, বাস্তবে যা দেখেন তা সবই ঠিক না বেঠিক? এখানে সূর্য সম্পর্কে যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সেটা বাস্তবভিত্তিক নয়। বরং গবেষণা ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক। আপনি আমাকে বলেছেন, বাস্তবভিত্তিক জবাব দিতে। আপনার দৃষ্টিতে যেটা বাস্তব, আমার দৃষ্টিতে সেটা অবাস্তব। সুতরাং আমাকে বাস্তবভিত্তিক জবাব দিতে বলেন কীভাবে? বাস্তব বলা হয় সে জিনিসকে যা আমি করতে চাই তা-ই হয়। দেশে অশান্তি বিরাজ করছে, অশান্তি দূর করার জন্য যে পদক্ষেপটি আমি গ্রহণ করব, সে পদক্ষেপ গ্রহণ করার পর যদি অশান্তি বন্ধ হয়ে যায় তখন বলব যে, আমার পদক্ষেপটি বাস্তবভিত্তিক। আর বাস্তব মনে করে কোনো পদক্ষেপ নিলাম কিন্তু সেটা সফল হলো না, তাহলে আমি বলব, আমি যে পদক্ষেপ নিয়েছিলাম সেটা বাস্তবভিত্তিক নয়, কোনো পদক্ষেপ ভুল হয়ে গেছে। আমি বলি, অশান্তি দূর করার জন্য আশু ব্যবস্থা হলো দেশের সর্বশ্রেণির মানুষের সেজদায় পড়ে কান্নাকাটি করা, ইবাদত করা, নামাজ পড়া এবং এস্তেগফার পড়া। এগুলোই আমার বাস্তবভিত্তিক, বিশ্বাসভিত্তিক ব্যবস্থাপনা। স্থায়ী ব্যবস্থা হলো জিহাদের যে গলদ অর্থ করা হচ্ছে সেটা মেধার বিকারগ্রস্ততা। মেধা ঠিক করতে হবে সঠিক শিক্ষার ভিত্তিতে। সুতরাং সঠিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তাহলেই কেবল স্থায়ীভাবে সন্ত্রাস দূর হবে। আপনি যদি বলেন, এগুলো অবাস্তব কথা। এখন কি আর আল্লাহর রসুলের যুগ আছে? আমি জিজ্ঞেস করি, আল্লাহর রসুলের যুগ থাকতে হবে তাহলেই বাস্তব হবে? এ বাস্তবের অর্থ কি এই যে, নামাজের কথা বলা যাবে না। কান্নার কথা বলা যাবে না। এস্তেগফারের কথা বলা যাবে না, তাহলে আমি বলব আপনার বুঝের ভুল আছে। সে বুঝের সংশোধনী দরকার।

ইসলামের ভিত্তি হলো পাঁচটি : ১. আল্লাহর একাত্মবাদ ও তার কমান্ডকে বিনা বাক্যব্যয়ে গ্রহণ করা। ২. নামাজ কায়েম করা। ৩. জাকাত আদায় করা। ৪. রোজা রাখা। ৫. হজ করা।

আমাদের বিশ্বাস করতে হবে, সবচেয়ে বড় ব্যক্তি ছিলেন হজরত মুহাম্মদুর রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম। তাঁর যুগেও অন্যায় কাজ হয়েছে। মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি তাঁর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আল্লাহর সঙ্গে কানেকশন করে বলেছেন, যে আল্লাহ! কাফেররা সন্ত্রাস করছে, মদিনায় হামলা করতে আসছে, মক্কায় হামলা করছে। সুতরাং এ সন্ত্রাস ও অস্থিরতাকে দূর করার জন্য বাস্তবভিত্তিক কিছু কাজ দেন, যে কর্মসূচি গ্রহণ করলে মানুষের মাঝে শান্তি আসবে। তখন আল্লাহপাক বলেছেন, তোমরা আমার একাত্মবাদকে মেনে নাও। নামাজ পড়তে শুরু কর, জাকাত আদায় কর, রোজা রাখ, হজ কর, তাহলে অস্থিরতা দূর হবে। বস্তুত, এগুলোর সঙ্গে বর্তমান অবস্থার কী কানেকশন সেটা আমি বলতে পারব না। এ মাস চলছে হজের মাস। বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তিতে থাকার জন্য হজের দিকনির্দেশনা রয়েছে, আপনি হজ করতে রওনা হয়েছেন, আপনার চিন্তা ঠিক করে নিতে হবে। মানুষের সব কাজের মূল হলো চিন্তা। চিন্তাকে ভিত্তি করেই সব কিছু হয়। আল্লাহপাক বলেছেন, তোমরা হজে যাও। আমি মৌলভী সাহেব হজে যাচ্ছি, এক ধরনের চিন্তা করে যাচ্ছি। আমি মনে করি শান্তি আসবে আল্লাহ আল্লাহ জিকির করলে, মসজিদে বসে থাকলে। আরেকজন আর্মি, সে মনে করে শান্তি আনতে হলে আমাকে তলোয়ার নিয়ে দাঁড়াতে হবে। আর একজন ব্যবসায়ী। সে বলে, জরুরত পুরা করার জন্য অর্থের প্রয়োজন, তাই আমাকে ব্যবসা করতে হবে। নেতার চিন্তা হলো শাসনের মাধ্যমে শান্তি আসবে, আরেকজনের চিন্তা হলো নামাজের মাধ্যমে শান্তি আসবে। এই তো চিন্তার পার্থক্য হয়ে গেল। তিনজনের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি হয়ে গেল। চিন্তার যদি একতা না আসে, চিন্তা যদি এক না হয়, তাহলে তিনজন এক ফ্লাটফর্মে আসতে পারবে না। শান্তি আসবে কেমন করে। আমি বলি এক কথা, আপনি বলেন আরেক কথা। চিন্তার পার্থক্যের কারণে প্রত্যেকের কর্মসূচিতে পার্থক্য হয়ে গেছে।

মাওলানা মাহমূদুল হাসান

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *