• অক্টোবর ৪, ২০২২
  • Last Update অক্টোবর ১, ২০২২ ৭:১০ অপরাহ্ণ
  • বাংলাদেশ

কুয়াকাটা পর্যটন উন্নয়নে মেয়রের উদ্ভাবনী উদ্যোগ

কুয়াকাটা পর্যটন উন্নয়নে মেয়রের উদ্ভাবনী উদ্যোগ

 নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য, বৈচিত্রপূর্ণ সংস্কৃতি, দৃষ্টিনন্দন জীবনাচার বাংলাদেশকে গড়ে তুলেছে একটি বহুমাত্রিক আকর্ষণসমৃদ্ধ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে। তাই বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে যুগে যুগে ভ্রমণকারীরা মুগ্ধ হয়েছেন। তুলনামুলকভাবে বাংলাদেশ স্বল্প আয়তনের দেশ হলেও বিদ্যমান পর্যটন আকর্ষণে যে বৈচিত্রতা সহজেই পর্যটকদের আকর্ষন করতে পারে। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে অবস্থিত পর্যটন নগরী কুয়াকাটা। পর্যটকদের কাছে সাগর কন্যা নামে অধিক পরিচিত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা। যেখানে একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের মতো বিরল দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

এছাড়াও রয়েছে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন “সুন্দরবন” এর পূর্বাংশ। স্বাভাবিকভাবে এ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশে পর্যটন শিল্প উন্নয়নের সম্ভাবনা অপরিসীম। নতুন করে কৌশল ঠিক করে সম্ভাবনার সবটুকু কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পর্যটনে মডেল হতে পারে। পৃথিবীতে পর্যটন শিল্প আজ একটি অন্যতম বৃহত্তম শিল্প হিসেবে স্বীকৃত। পর্যটন শিল্পের বিকাশের ওপর বাংলাদেশের অনেকখানি সামগ্রিক উন্নয়ন নির্ভর করছে। দেশে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটলে কর্মসংস্থান ঘটবে ও বেকারত্ব দূরীকরণের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন সফল হবে। ভিন্ন ভিন্ন দেশের প্রাচীন যুগের ইতিহাস ও শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রথার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ঐতিহাসিক স্থান দেখার জন্যও পর্যটকরা নিজ দেশের সীমানা পেরিয়ে দূর-দূরান্তে ছুটে চলে প্রতিনিয়ত। পর্যটন হলো একটি বহুমাত্রিক শ্রমঘন শিল্প।

এ শিল্পের বহুমাত্রিকতার কারণে বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সম্ভাবনা তৈরী হয়। সরকারী অনুদান ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় সাধন করার পাশাপাশি উন্নত অবকাঠামো, সঠিক পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীল অবস্থা দরকার পর্যটনের জন্য। পর্যটন শিল্পের উপাদান হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, পর্যটন স্থাপনা ও ক্ষেত্রগুলো দেশে ও বিদেশে আকর্ষণীয় উপস্থাপনের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটানো সম্ভব। পর্যটনের মুলকথা পর্যটকদের কুয়াকাটায় আসতে উদ্বুদ্ধ করা। বাংলাদেশের পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণে বিদেশিদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। কোভিড’১৯ করোনা ভাইরাস মহামারিতে কুয়াকাটাসহ সকল পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে।

ফলে, পর্যটক নির্ভর কুয়াকাটার ৭০% ক্ষুদ্র-বৃহৎ ব্যবসায়ীগণ বিপাকে পড়েছেন। দক্ষিণ বাংলার অর্থনীতি বেশ বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে পর্যটন শিল্পের পুনর্বিকাশ(Redevelopment) ঘটানো প্রয়োজন৷ সরকারের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের বিকাশে ও কুয়াকাটার পর্যটন উন্নয়নে বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও প্রদক্ষেপ নিতে হবে। মেয়র আনোয়ার আরো বলেন সম্ভাবনাময় এই কুয়াকাটা পর্যটন নগরীকে একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে প্রত্যেকটি প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বত্র সহযোগিতা করতে হবে। পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের চলাচলে সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কুয়াকাটা পৌরসভার প্রত্যেক ভ্যান/অটো রিক্সাওয়ালা/ বাইকারদের বাধ্যতামূলক ট্যুরিস্ট জোনে ভ্যান/অটোরিক্সা/বাইক চালানোর লাইসেন্স গ্রহন করতে হবে। কোন ভাবেই পর্যটকদের হয়রানি করা যাবে না। কুয়াকাটায় আগত পর্যটক যেখানে যেতে চাইবে, সেখানে যেতে হবে।

না হলে ট্যুরিস্ট জোনে তাদের ভ্যান/অটো রিক্সা/বাইক চালাবার লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়কারীদের চিহিৃত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা বিধান করতে হবে। অবৈধভাবে সমুদ্র সৈকত দখল ও সরকারি বনাঞ্চল নিধন, সরকারি খাসভূমি দখল, অপরিকল্পিত ইমারত তৈরী, ট্যুরিস্ট পুলিশকে আধুনিকায়ন, পর্যটকদের নিরাপত্তা বিধানে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন, নিরাপত্তা হেল্পডেস্ক স্থাপন, বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটিকে আরো গতিশীল, সমুদ্রে নেটিং ব্যবস্থা, লাইফ গার্ড, ওয়াচ টাওয়ার আধুনিকায়ন, সমুদ সৈকত পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য বিক্রি বন্ধ, দ্রুত বিনোদন পার্ক প্রতিষ্ঠা, যানজট সমস্যার সমাধান, ড্রেনেজ সমস্যার সমাধান, সুপেয় পানি সমস্যার সমাধানসহ সমুদ্র সৈকতে পর্যাপ্ত লাইটিং এর ব্যবস্থা গ্রহন, হোটেল, রেস্তোরার লাইসেন্স এর জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেবা চালু, হোটেল কর্মচারীদের শ্রম আইন অনুযায়ী সকল সমস্যার সমাধান করা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া, পর্যটন বিকাশে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কুয়াকাটা পর্যটনের আলাদা ই-কমার্স ওয়েব পোর্টাল , অনলাইন ডিরেক্টরি চালু সহ বিদেশিদের এখানে অর্থায়নে উৎসাহিত করে ১৮ কিঃমিঃ সমুদ্র সৈকতকে প্রকৃত ব্যবহার করাসহ সরকারের গৃহীত প্রকল্পগুলো যাতে সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য সরকারের পাশাপাশি ট্যুর অপারেটসহ বেসরকারী উদ্যোগকেও এগিয়ে আসতে হবে। কুয়াকাটার স্থানীয় জনগণকেও এতে অংশগ্রহন করতে হবে।

কুয়াকাটার পর্যটন বিকাশে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বা কুয়াকাটার সমস্যা সমাধান করা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব না। এ জন্য সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হবে। সদিচ্ছা থাকলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে না। সকল সমস্যা চিহিৃত করে জরুরী ভিত্তিতে এর সমাধান করে পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করা প্রয়োজন। তবেই বাংলাদেশের অপরিসীম সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্প দেশের অর্থনীতিতে আশানুরূপ ভূমিকা রাখতে পারবে। কুয়াকাটা পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে আপনাদের কি কি চিন্তাভাবনা রয়েছে, সমস্যা – সম্ভাবনা, উত্তরণের পথ সকল বিষয়ে পর্যটন শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকলের কাছ থেকে মতামত জানা আবশ্যক। আশা করছি, আপনারা প্রত্যেকে কুয়াকাটাকে ভালোবাসেন,বাংলাদেশকে ভালোবাসেন। আসুন আমরা সবাই মিলে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র, সাদা-কালো, ধনী-গরীব, রাজনৈতিক পরিচয়, সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একটা পরিচয়ে সামনে এগিয়ে যাই; আমরা বাংলাদেশী। বাংলাদেশ আমাদের অহংকার এবং পর্যটনের মাধ্যমে সাবলম্বী বাংলাদেশ গড়ে তুলি। পর্যটন শিল্প বিকাশে কুয়াকাটা নিয়ে সর্বস্তরের সচেতন মানুষের সুচিন্তিত মতামত জানানোর জন্য মেয়র আনোয়ার অনুরোধ করেছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.