• নভেম্বর ২৭, ২০২২
  • Last Update নভেম্বর ২৫, ২০২২ ৭:৪২ অপরাহ্ণ
  • বাংলাদেশ

বরিশালে সরকারী অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনিয়মিত কর্মচারী

বরিশালে সরকারী অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনিয়মিত কর্মচারী

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ পারিশ্রমিক ছাড়া কাজ করতে অনিহা প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে অনিয়মিত কর্মচারীর বিরুদ্ধে কখনও ২০ লাখ, কখনও ২৫ লাখ আবার কখনও ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। একজন সামান্য অনিয়মিত টেকনিশিয়ান সরকারী এ বিপুল পরিমান অর্থ কিভাবে আত্মসাত করেছে তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি জেলার মুলাদী উপজেলার।

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেনের রোষানলে পুলিশ দিয়ে ওই টেকনিশিয়ানকে গ্রেফতারের ভয়দেখিয়ে এক রাত আটক করে রাখার পর পূর্ণরায় হয়রানী করায় গত ১৪দিন ধরে নিজ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনিয়মিত কর্মচারী বেলাল হোসেন। ফলে তার (বেলাল) পরিবারকে সরকারী পিয়ন ও নাইটগার্ডদের মাধ্যমে বাসায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। অসহায় বেলাল হোসেন সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের মাধ্যমে নায্য বিচার পেতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আত্মগোপনে থাকা তথ্য ও যোগাযোগ অধিদপ্তরের ইনফো সরকার-২ প্রকল্পে মুলাদী উপজেলা টেকনিশিয়ান (অনিয়মিত কর্মচারী) বেলাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, গত ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যা রাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেন ফোন করে আমাকে তার অফিসে ডাকেন। আমি এশার নামাজের আগেই অফিসে ঢুকে দেখতে পাই ইউএনও, থানার ওসিসহ একদল পুলিশ অফিসে বসে আছেন। আমি অফিসে প্রবেশের সাথে সাথে ইউএনও স্যার আমাকে বলেন, আপনি অফিসের প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন। এই টাকা আজ রাতের মধ্যে আমার কাছে জমা দিবেন।

মুলাদী থানার ওসি জিয়াউল আহসান বলেন-যদি তুমি টাকা জমা দিতে অসমর্থ হও তাহলে তোমাকে পেন্ডিং মামলায় গ্রেফতার করা হবে। আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই উপজেলা চেয়ারম্যান তারিকুল হাসান খান মিঠু ইউএনও স্যারের অফিসে আসেন। তখন উপজেলা চেয়ারম্যানকে ইউএনও স্যার বলেন, আমি নাকি অফিসের ২৫ লাখ টাকা আত্মসাত করেছি। এরপর চেয়ারম্যান চলে যাওয়ার পর রাত একটা পর্যন্ত আমার সাথে কথার কাটকাটি চলে। আমি বারবার প্রমান চাইলেও ইউএনও স্যার কোন প্রমান দেখাতে পারেননি।

একপর্যায়ে থানা পুলিশ আমাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে অফিসের একটি কক্ষে আটকে রেখে চলে যাওয়ার আগে বলেন, পরেরদিন সকালে টাকা না দিলে থানায় নিয়ে আমাকে অমানুষিক নির্যাতন করে একাধিক পেন্ডিং মামলায় আসামি করে কারাগারে পাঠানো হবে। যে কারণে জীবনের শেষসময় পর্যন্ত আমাকে কারাগারে কাটাতে হবে।
বেলাল হোসেন আরও জানান, আমাকে আটক করে রাখার খবর পেয়ে আমার নিকট আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবরা পরেরদিন দুপুর ১২টার মধ্যে আট লাখ টাকা যোগার করে ইউএনও স্যারকে দেয়ার পর আমাকে মুক্তকরে দেওয়া হয়। বিষয়টি আমি মুলাদীর অনেকের কাছে বলার পর তারা আমাকে ইউএনও’র সাথে বিবাদে না জড়ানোর পরামর্শ দেয়। নিরুপায় হয়ে লোকলজ্জায় ঘটনার দুইদিন পর আমি ঢাকায় চলে আসি। পরেরদিন আমার মুলাদীর বাসায় থানা পুলিশ গিয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদর্শন করেন। খবর পেয়ে আমি থানার ওসিকে ফোন করে জানতে চাই কেন আমার বাসায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। জবাবে তিনি বলেন-আর পাঠাবোনা। পরবর্তীতে গত ৫ মে আমার স্ত্রীকে অফিসে ডেকে নিয়ে ইউএনও স্যার বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে বলেন-আমি নাকি অফিসের ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাত করেছি। এতেও ক্ষ্যান্ত না হয়ে ইউএনও স্যার আমার বাবা আবুল কালাম মাল ও আমার শ্বশুরকে ফোনে হুমকি প্রদান করেন। বর্তমানে অফিসের পিয়ন ও নাইটগার্ডদের মাধ্যমে আমার মুলাদীর বাসা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এমনকি আমার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।

বেলাল হোসেন বলেন, আমার স্ত্রী শান্তা বেগম উপজেলা পরিষদের আওতাধীন উপজেলা ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা। ইউএনও ওই অফিসটিও তালা বন্ধ করে রেখেছেন। তিনি (বেলাল) আরও বলেন, ২০১৪ সালের ১৬ মার্চ তথ্য ও যোগাযোগ অধিদপ্তরের ইনফো সরকার-২ প্রকল্পের মুলাদী উপজেলা টেকনিশিয়ান হিসেবে আমি যোগদান করিন। ২০১৬ সালের ৩০ জুন ওই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পরবর্তীতে হাইকোর্টে চাকরি স্থায়ী করনের বিষয়ে একাধিক রিট পিটশন দায়ের করার পর তাতে আমরা রায় পাই। যা এখন আপিল অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন আমি বিনাবেতনে কাজ করে আসছিলাম। পূর্ববর্তী উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ আমার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে আমাকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু বর্তমান ইউএনও জাকির হোসেন আমাকে কোন পারিশ্রমিক দিতে রাজি নন। তাই আমি পারিশ্রমিকছাড়া কাজ করবোনা বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানালেই তিনি আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের মহাদুর্নীতি ঢাকতে আমার উপর মিথ্যে দোষ চাঁপিয়ে দিয়েছেন। যার সঠিক তদন্ত করলেই মূলরহস্য বেরিয়ে আসবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক জনপ্রতিনিধিরা বলেন, ইউএনও’র অভিযুক্ত বেলাল হোসেন একজন সামান্য অনিয়মিত টেকনিশিয়ান। তার কাছে সরকারী এতো বিপুল পরিমান অর্থ থাকার কথা নয়, সেখানে সে (বেলাল) কিভাবে অর্থ আত্মসাত করেছে তা রহস্যজনক।

এ ব্যাপারে মুলাদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাকির হোসেন বলেন, অর্থ আত্মসাতের ব্যাপারে তদন্ত চলছে তাই এখনও সঠিক করে মোট টাকার পরিমান বলা যাচ্ছেনা। তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিষয়গুলো পরবর্তীতে গণমাধ্যমকে জানানোর কথা বলে তিনি এ ব্যাপারে আর কোন কথা বলতে রাজি হননি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *